অনুরোধেও মন গলেনি রিয়াদের, ক্ষুব্ধ বোর্ড সভাপতি পাপন

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর টেস্ট খেলবেন না, হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচই জাতীয় দলের হয়ে সাদা পোশাকে তার শেষ টেস্ট-গত পরশু টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হতেই হঠাৎ জোর গুঞ্জন। একাধিক টিভি চ্যানেলে স্ক্রল, ব্রেকিং নিউজ।

বলার অপেক্ষা রাখে না, ১৮ মাস পর টেস্টে ফিরে হারারেতে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দীর্ঘ ইনিংসটি (১৫০ অপরাজিত) খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। আর সেদিনই তিনি ড্রেসিংরুমে সতীর্থ ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফদের সাথে আলাপে অবসরের ইচ্ছের কথা জানিয়ে দেন।

সেটা এক দুই মুখ হয়ে হারারেতে অবস্থানরত একাধিক টিভি সাংবাদিকের কাছে চলে যায়। তারাও সোৎসাহে নিউজ করেন, জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ আর টেস্ট খেলতে চান না, এটাই তার শেষ টেস্ট। ভিডিওবার্তায় তিনি সে ঘোষণাও দেবেন।

কিন্তু দিনের খেলা শেষে হারারে থেকে পাঠানো ভিডিও বার্তায় মাহমুদউল্লাহ আর অবসরের ঘোষণা দেননি। এমনকি আজ টেস্টের শেষ দিনে ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়েও অবসর নিয়ে কোনো কথা বলেননি তিনি।

এদিকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিকের সাথে আলাপে মাহমুদউল্লাহর টেস্ট থেকে অবসরের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘রিয়াদ তো লিখিত দিয়ে গেছে যে, সে টেস্ট-ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি; তিন ফরম্যাটেই খেলবে।’

বলে রাখা ভালো, এবার বোর্ড যাদের সাথে এক বছরের জন্য চুক্তি করেছে, সেই সব ক্রিকেটারের সাথে বার্ষিক চুক্তির আগেভাগেই লিখিত নিয়েছে যে, কে কোন ফরম্যাটে খেলতে আগ্রহী। সেটা দেখেই তাদের চুক্তিতে রাখা হয়েছে।

বিসিবি সভাপতির ওই মন্তব্যর পরদিন মানে গতকাল ১০ জুলাই আর কোনো সাড়া শব্দ ছিল না। আজ (রোববার) হারারে টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিন খেলা শুরুর আগে হঠাৎ আবার মাহমুদউল্লাহর অবসর ইস্যু মাথাচাড়া দিল।

শেষ দিন খেলা শুরুর আগে বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমের সামনে সতীর্থ ক্রিকেটাররা সারিবদ্ধ হয়ে মাহমুদউল্লাহকে বিদায়ী সংবর্ধনা জানালেন। যদিও সারাদিনে হারারে থেকে বিসিবির হেড অব মিডিয়া রাবিদ ইমাম কিছুই জানাননি। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিসিবি থেকেও কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে ভেতরের খবর ভিন্ন। বোর্ডের একাধিক উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, ফোন করে মাহমুদউল্লাহকে আপাতত অবসরের ঘোষণা না দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

সূত্র জানায়, বিসিবি প্রধান রিয়াদকে দেশে ফেরত আসার পর বসে কথা বলে তারপর তার টেস্ট থেকে অবসরের বিষয়টি সুরাহা করার কথা বলেন এবং আগামীতে দেশের মাটিতে ঘটা করে টেস্ট থেকে অবসরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার কথা বলেন।

সে সুযোগও আছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রথমে পাকিস্তান আর পরে শ্রীলঙ্কার সাথে হোম সিরিজ আছে টাইগারদের। সেখানে দুটি করে টেস্ট ম্যাচও আছে। মাহমুদউল্লাহ অনায়সে সেই সিরিজ খেলেই অবসরে চলে যেতে পারতেন।

কিন্তু জানা গেছে, রিয়াদ বোর্ড সভাপতির কথা রাখেননি। নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকারই কথা জানিয়েছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই বোর্ড সভাপতি বিষয়টি সহজভাবে নেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বোর্ড পরিচালক জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, বোর্ড সভাপতির মনোক্ষুণ্ণ হবার যথেষ্ট যুক্তি আছে। কারণ ১৮ মাস পর একটি সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার বাইরে পাপনের ব্যক্তিগত উদ্যোগেই রিয়াদের আবার টেস্টে ফিরে আসা।

তরুণ ও জুনিয়র ক্রিকেটাররা সেভাবে দায়িত্ব নিয়ে সামনে এগিয়ে আসতে পারছে না বলেই দেখেই অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহকে আবার দলে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন বিসিবি প্রধান। কিন্তু টেস্টে ফিরে এক ম্যাচ ভালো খেলেই রিয়াদ অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন।

কারো কারো মত, আগে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার কথা ভোলেননি রিয়াদ। একটা মনোকষ্ট ছিল। আর অপেক্ষায় ছিলেন, একবার সুযোগ পেলেই সামর্থ্যের প্রমাণ দেবেন।

আর যেহেতু পারফরম্যান্সটা ভালো হয়েছে, নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা নৈপুণ্য দেখিয়ে ‘বিগ হান্ড্রেড ’ (১৫০) হাঁকিয়েছেন। তাই হয়তো মনে করছেন, এটাই বিদায় নেয়ার মোক্ষম সময়।

তবে বোর্ড প্রধান চেয়েছিলেন, মাহমুদউল্লাহ আরও কিছুদিন টেস্ট খেলেন এবং ঘরের মাঠে পাকিস্তান আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মত গুরুত্বপূর্ণ সিরিজেও থাকেন। কিন্তু রিয়াদ তার আগেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্রেক হয়েছে।

Show More
Back to top button