টেলরের ‘অদ্ভুত’ আউটে আইনের মারপ্যাঁচ (ভিডিও)

জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর কি আসলেই আউট ছিলেন? তার ‘হিটউইকেট’ আউটটি নিয়ে আলোচনা চলছে বেশ। ডাকওয়ার্থ লুইসের মতো ক্রিকেটের কিছু কিছু আইন আছে, যেগুলো আসলে পরিষ্কার নয় এখনও। টেলরের আউটটি তেমনই এক বিতর্ক তৈরি করেছে। জিম্বাবুইয়ান সমর্থকরা আফসোস করতেই পারেন। অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর সে সময় অদ্ভুত আউটের শিকার না হলে হতে তো পারতোই।

জিম্বাবুয়ে ইনিংসের ২৫তম ওভারের ঘটনা। টাইগার পেসার শরিফুল ইসলামের লাফিয়ে ওঠা একটি ডেলিভারি আপার-কাট করতে চেয়েছিলেন টেলর। ব্যাটে বলে সংযোগ ঘটাতে পারেননি। বল চলে যায় উইকেটরক্ষকের কাছে।

এদিকে ব্যাটে লাগাতে না পারায় ব্যাটসম্যানরা অনেক সময় নিজের ভুল কি হয়েছে দেখতে ‘ছায়া শট’ খেলেন। মানে কিনা ব্যাটটা ঝাঁকিয়ে শটের মতো করে দেখেন, কেন লাগাতে পারলেন না বল।

টেলর অনেকটা তেমনই করতে গিয়েছিলেন। তারপর ব্যাটটা হাত থেকে ঝুলিয়ে সামনে থেকে পেছনে নিতেই সেটি লেগে যায় স্ট্যাম্পে, পড়ে যায় বেল। বাংলাদেশি একজন ফিল্ডার সেটা দেখে আবেদন করেন আউটের। মাঠের আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস সেটি রেফার করেন তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে।

তৃতীয় আম্পায়ার লংটন রাসেরে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত দেন হিটউইকেট আউটের। ৪৬ রানে সাজঘরে ফিরতে হয় টেলরকে। মাঠ ছাড়ার সময় জিম্বাবুইয়ান অধিনায়কের চোখে মুখে হতাশার ছাপ ছিল স্পষ্ট।

কিন্তু কেন আউট হলেন টেলর? আসলেই কি তাকে আউট দেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল? অনেকেই মনে করছেন, ক্রিকেটীয় আইনের অস্পষ্টতা আরও একবার ফুটে উঠল এই আউটে।

আইনের ধারা ৩৫.১.১.১ অনুযায়ী, ব্যাটসম্যানরা হিটউইকেট আউট হবেন, যদি তারা ‘একটি ডেলিভারি খেলার প্রস্তুতি নেয়ার সময় বা খেলার চেষ্টা করতে গিয়ে’ নিজের ব্যাট বা শরীরের কোনো অংশ দিয়ে উইকেট ভেঙে ফেলেন।

ধারা ৩৫.২ অনুযায়ী, ব্যাটসম্যান হিটউইকেট আউট হবেন না ‘ডেলিভারিটি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর স্ট্রাইকার (ব্যাটসম্যান) কিছু করতে গিয়ে’ যদি উইকেট ভেঙে যায়। যদি না স্ট্রাইকার রান নেয়ার চেষ্টা করেন অথবা ইচ্ছেকৃতভাবে উইকেট রক্ষা করার জন্য দ্বিতীয়বার ব্যাট ব্যবহার করেন।

আসলে টেলরের বেলায় কি ঘটেছে, সেটির অস্পষ্টতা থাকায়ই তৃতীয় আম্পায়ারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। আম্পায়ার লক্ষ্য করেছেন, বলটি ব্যাট পেরিয়ে গেলেও টেলর ডেলিভারিটি খেলতে চেষ্টা করার ফলো-থ্রুতেই ব্যাটটি স্ট্যাম্পে লেগেছে কিনা।

এখানে আবার আরেকটি অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে, ডেড-বল আইনে। যেখানে বলা আছে, উইকেটকিপার বা বোলারের কাছে বল চূড়ান্তভাবে পৌঁছে গেলে তা ডেড হয়ে যাবে।

সম্ভবত টেলর উইকেট ভাঙার আগে বল কিপারের গ্লাভসে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এখানেও একটা শব্দ আলাদা-‘চূড়ান্তভাবে’। যেখানে আইনে যোগ করা হয়েছে, বলটি পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে কিনা তার সিদ্ধান্ত নেবেন আম্পায়ার।

আরও বলা আছে, ‘বলটি ডেড বল হিসেবে ধরা হবে তখনই, যখন পরিষ্কারভাবে বোলার এন্ডের আম্পায়ার বুঝতে পারবেন, ফিল্ডিং দল এবং উইকেটের দুই ব্যাটসম্যান যখন মনে করবে এটা খেলা হয়ে গেছে।’

মজার ব্যাপার হলো, আজকের ম্যাচে ওমন অদ্ভুত আউট হওয়ার আগে আরও একবার হিটউইকেট হতে বসেছিলেন টেলর। নবম ওভারে তাসকিন আহমেদের একটি ডেলিভারি ডিফেন্ড করতে গিয়ে বাঁ পায়ের জুতো খুলে একটুর জন্য স্ট্যাম্পে লাগেনি জিম্বাবুইয়ান অধিনায়কের।

Show More
Back to top button